ওয়াটার কালার বা জলরং বলতে আমরা সেই ধরণের রংকেই বুঝে থাকি যা সাধারণত পানির সাথে মিশিয়ে কোন ছবি বা নকশা আকতে হয়। জলরঙ অঙ্কন শিল্পের সবগুলো শাখার মধ্যে প্রাচীনতম রুপগুলির মধ্যে অন্যতম। এটির রঙ জল-দ্রবণীয় বলে এর স্বচ্ছ বৈশিষ্ট রয়েছে। অনেকে জলরঙকে নরম বা হালকা হিসাবে বর্ণনা করে, কারণ জলরঙ দ্বারা যে সকল ছবি বা দৃশ্য অঙ্কন করা হয়, সেগুলি অ্যাক্রিলিক বা তেল রঙের মতো উজ্জ্বল হয় না।
যারা নতুনভাবে জলরঙ শিখতে চায় তাদের ভিতর অনেক সময় একটা অজানা ভয় কাজ করে। কিভাবে জলরঙ শিখা শুরু করা যায় বা জলরঙ করতে কি কি উপাদান দরকার হয়? আজকের এই প্রবন্ধে আমি সবগুলো বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।
প্রয়োজনীয় উপাদানঃ
জলরঙ শিখার জন্য আমাদের কিছু আবশ্যকীয় উপাদান দরকার হয়।চলুন জেনে নেয়া যাক সেই সমস্ত উপাদানগুলো সম্পর্কে।
১. জলরঙঃ
আমাদের দেশে জলরঙ সাধারণতঃ বই খাতার দোকানে পাওয়া যায়। এছাড়া আলাদাভাবে রঙের দোকানেও পাওয়া যায়। জলরঙ সাধারণত তিন ধরণের গ্রেডে পাওয়া যায়, যেমনঃ শিশুদের জন্য, ছাত্রদের জন্য এবং শিল্পীদের জন্য। তাই নবীন শিল্পিীদের জন্য ছাত্র গ্রেডের সেট ব্যবহার করাই ভাল। কারণ এই সেটে একসাথে অনেকগুলো রঙ পাওয়া যায়। তাই আপনি অন্য রঙের মিশ্রণ ছাড়াই অনেকগুলো রঙের সমষ্টি পেয়ে যাবেন।
২. ব্রাশঃ
জলরঙ করার জন্য আমাদের দ্বিতীয় যে জরুরী উপাদানটি প্রয়োজন, তা হলো ব্রাশ। আপনার অঙ্কনের বিষয়ের উপর নির্ভর করে আপনাকে ব্রাশ নির্বাচন করতে হবে। ব্রাশগুলো ১ নং থেকে শুরু করে ১০/১২ পর্যন্ত হতে পারে । ১নং ব্রাশ চিকন থেকে শুরু করে নাম্বার যত বাড়বে ব্রাশের আকারও তত মোটা হয়ে থাকে। তবে জলরঙের জন্য সবচেয়ে সাধারণ ব্রাশগুলি হল বৃত্তাকার ব্রাশ। কারণ এগুলো দিয়ে চিকন বা মোটা যে কোন ধরনের ষ্ট্রোক সহজেই আকা যায়।
৩. জলরঙ কাগজঃ
জলরঙ করার জন্য আপনাকে উপযুক্ত কাগজ নির্বাচন করতে হবে। বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরণের জলরঙ কাগজের মধ্য থেকে আপনাকে উন্নত মাণের কাগজটি বেছে নিতে হবে। যে কাগজগুলোর রঙ 01শোষণ করার ক্ষমতা কম, সে ধরণের কাগা জলরঙের জন্য আদর্শ। তবে আজকাল অনেকে জলরঙ
করার জন্য হাতে তৈরি কাগজও ব্যবহার করে থাকে। ষ্টেশনারীর দোকানে আপনি বিভিন্ন সাইজের শীট অথবা স্পাইরাল বাইন্ডিং আকারে খাতা কিনতে পারবেন।
৪. স্বচ্ছ পানি ও কাপড়ঃ
সর্বশেষ আপনার প্রয়োজন হবে স্বচ্ছ পানি। কারণ আপনার রঙগুলোকে আপনার পছন্দমতো শেডে নিয়ে আসার জন্য পরিমাণমতো পানি মিশিয়ে হালকা বা গাঢ় করে নিতে হবে। জলরঙ করার পরে ব্রাশ ধোয়ার জন্যও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করতে হবে। ব্রাশ ধোয়ার পরে সেগুলোকে পরিষ্কার সূতি কাপড় দিয়ে ভালো করে মুছে শুকিয়ে নিতে হবে।
জলরঙ শিখতে চাইলে আমরা খুব অল্প খরচেই শুরু করতে পারি। আমরা যদি ৪৮/৬০ পিসের কালারের রঙ সেট না-ও কিনতে পারি তথাপি আমরা অল্প কিছু রঙের সেট কিনে বিভিন্ন রঙের মিশ্রণ ঘটিয়ে আরো অনন্য রঙের শেড তৈরি করে নিতে পারি। যেমনঃ
Ø লাল+নীল=পার্পল
Ø হলুদ+লাল= কমলা
Ø হলুদ+নীল= সবুজ
Ø কমলা+নীল=ব্রাউন
Ø হলুদ+লাল+নীল=কালো
আমার চ্যানেলে আমি পর্যায়ক্রমে জলরঙ দিয়ে বিভিন্ন ডিজাইন করে দেখাবো। আপনার যেকোন তথ্য ও পরামর্শের জন্য আমাদের ফেসবুক গ্রুপে মেসেজ দিলে আমরা খুবই অনুপ্রাণিত হবো।

3 মন্তব্যসমূহ
ওয়াটার কালার বা জলরং নিয়ে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
উত্তরমুছুনঅসাধারণ কনটেন্ট , এ ধরনের ইনফরমেটিভ লেখা আরও বেশি প্রয়োজন।
উত্তরমুছুনতথ্যবহুল লেখনী। শুভকামনা রইল।
উত্তরমুছুন